Description
সঞ্জয় ঋষি–র “জাম রঙের কবিতা” কাব্যগ্রন্থে ঢুকতে হলে থমকে দাঁড়াতে হয়। দাঁড়াতে হবে এইজন্য যে এই কবিতা পাঠককে কবির জীবন আর তাঁর কবিতাকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে দাঁড় করিয়ে দেবে। আবার এর বিপরীতে কখনো হয়তো, তাঁর কবিতা ব্যক্তিজীবন থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে জীবনকেই নতুন করে দেখতে চাইবে। এই যে মাঝে মাঝে এক হয়ে যাওয়া, আবার তার পরেই আলাদা দুটো রাস্তায় পথ হাঁটা, এটাই সঞ্জয় ঋষি–র কবিতার বৈশিষ্ট্য। কবি নিজে তাঁর কবিতা প্রসঙ্গে বলেন, “জীবন আর শিল্প এক হলেই প্রকৃতটা পাওয়া যায়।” মফস্সল শহরের দিনযাপন, প্রেমের সাফল্য ব্যর্থতা, আশপাশের সমাজ ও ভোট-রাজনীতির প্রসঙ্গ, সবই এসে পড়ে তাঁর লেখায়। আর এই সবকিছুর অন্তরালে কাজ করে চলে এক কবিতাপ্রাণ যুবকের নিজস্ব বিষন্নতার জগৎ। নাম-কবিতায় কবি যেমন লেখেন, “রঙ মেখে আছে মন। তোমার কাঁধ থেকে পাউডার মিশে যেতে দেখেছি আকাশে। গলায় পুঁইদানার মালা একটি একটি করে খসে যাচ্ছে। কুড়িয়ে এনেছি দানাগুলো প্রেমের কবিতার বইয়ের উপর রাখি। / বই যেন মালা পড়েছে গলায়। / সেই ছবি আর দেখতে পাই না। খোলা কাঁধ বেয়ে নেমে আসে পায়ে জলের নূপুর। / দৃশ্য যেমন সুখ দেয়, তেমনি অসুখও দেয়। / আমি জল রঙের নূপুর খুঁজতে খুঁজতে জাম রঙের দাগ ধুতে দেখি, তোমাকে।” এই কবি জানেন কী করে রূঢ বাস্তবকে বিদ্রূপের মোড়কে প্রকাশ করতে হয়। তিনি লেখেন, “খুব বেশি আঘাত পেলে কেউ কেউ / কবিতা লেখা ছেড়ে দেয় / খুব বেশি আঘাত পেলে কেউ কেউ / আত্মহত্যার সাথে ডিগবাজি খায়।” সঞ্জয় তার এই বইতে কোথাও কোনো অস্বচ্ছ ভাষার আড়াল নেননি। তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর অনুভবকে সরাসরি পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন। তাঁর কাছে কবিতা আর কবির জীবন একে অন্যের পরিপূরক। তিনি তাই লেখেন, “কবি থেকে জন্ম নেয় কবিতা। / কবিতা থেকে জন্ম নেয় কবি।”
Reviews
There are no reviews yet.